উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি যুগান্তকারী মাইলফলক : প্রধানমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রমাণ।

বুধবার বিকেলে পটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ পূর্বের তুলনায় অনেক এগিয়েছে।  আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি মানুষ খুন করে। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও জনগণের অধিকার রক্ষা করবো।

তিনি বলেন, দেশ এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ আরো উন্নত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিশাল আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমাদের এই দেশ। তাই তাদের অধিকার সবার আগে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। আমরা গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেবো। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মা-বোনের হাতে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে।

সমগ্র চট্টগ্রাম জুড়ে বর্তমান সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সব জায়গায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে দেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। ছয়টি বছর দেশে আসতে পারিনি। জিয়াউর রহমান আসতে দেয়নি। জনগণ আমাকে দেশে এনেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে এবং জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করে আমরা আমাদের ওয়াদা রক্ষা করেছি। বিএনপির দুর্নীতির টাকা বিদেশ থেকে এনে জনগণের হাতে দিয়েছি।

এর আগে  সকালে চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমিতে সদ্য নির্মিত প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উন্মোচন করেন কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে নির্মিত জাতির জনকের বৃহৎ আবক্ষ মূর্তি। এসময় সরকার প্রধানকে রেওয়াজ অনুযায়ী সালাম জানায় বাহিনীর পতাকাবাহী দল।

এরপর প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার হাব চট্টগ্রামের নৌবাহিনী ডক- ইয়ার্ডে যান । সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পেশাগত নানা কৃতিত্বের স্বীকৃতি ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড তুলে দেন বিভাগটিকে।

সেখানে বাহিনীর উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর অনিয়ম ও দু: শাসন কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসলে দেশের প্রতিটি বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করে তার সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে সরকার গঠন করে। এরপরেই বাংলাদেশ কিভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেই ব্যবস্থা করেছিলাম। আমাদের সেনাবাহিনী নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনী সহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন আরও উন্নত হয় সমৃদ্ধশালী হয় সেই ব্যবস্থা করেছিলাম।’

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রারই স্বীকৃতি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা যে বক্তব্য রেখেছেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি ঘোষণা করেছিলেন বাঙালি জাতি সম্পর্কে সেই উক্তি ‘কেউ দাবায় রাখতে পারবে না’। বাংলাদেশকে কেউ দাবায় রাখতে পারে নাই। পারবেও না। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পরে সেটাই প্রমাণ করেছি।’

একেএ/আরএম