চোখে জল নিয়েই জলজ স্বপ্ন জলকন্যার 7

হু হু করে কাঁদছেন। না, কান্না মানেই তো বেদনার নয়। কিছু কিছু অশ্রু হয় আনন্দেরও। রিকাকো ইকির কান্নাও ছিল তেমনই। অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার আনন্দেই এমন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এই কিশোরী সাঁতারু। আর সেই দৃশ্য জাপানিদের মনে যেন আলাদা জায়গাই করে নিয়েছে। চোখে সেই আনন্দের জল নিয়েই রিওর সাঁতার পুলের জলে কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে উড়ে যাচ্ছে ১৬ বছর বয়সী ইকি।

১৯৯২ সালে বার্সেলোনা অলিম্পিকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কাইকো ইওয়াসাকি রাতারাতি জাপানিদের হৃদয় জয় করেছিল। সাঁতারের ব্রেস্টস্ট্রোকে সোনা জিতে। ইকির স্বপ্নও তেমনই। সেও ইওয়াসাকির মতোই স্থান পেতে চায় জাপানের অলিম্পিক-ইতিহাসে।

রিও অলিম্পিকে সাঁতারের সাতটি ইভেন্টে অংশ নেবে ইকি। জাপানি সাঁতারে তার আবির্ভাব কিন্তু ঝড় তুলেই। গত বছর সিঙ্গাপুরে বিশ্ব জুনিয়র সাঁতারে ৫০ ও ১০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে সোনা জিতে সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এ বছরের শুরুতে ইকি নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ৫৪ সেকেন্ডের কম টাইমিং করে। জাপানি নারী সাঁতারুদের মধ্যে ইকিই প্রথম ৫৪ সেকেন্ডের কম টাইমিং করে হইচই ফেলে দিয়েছে। এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় রিওতেও, ‘আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে তুঙ্গে থেকেই রিও অলিম্পিকে পুলে নামতে চাই।’

জাতীয় ট্রায়ালে তাঁর কান্না ছিল আবেগের, ছিল গর্বের। তেমনই কোনো গর্বের অনুভূতি ইকি রিও অলিম্পিকে দেশের মানুষকে উপহার দিতে পারবে কি? ইকি বলল, ‘নিশ্চিত নই রিওতে আমি সে ধরনের অনুভূতির মুখোমুখি হতে পারব কি না। এখনো এসব নিয়ে ভাবিনি।’ যেন মানুষের প্রত্যাশার পারদটা একটু নামিয়েই রাখতে চাইল। কিন্তু মনে মনে স্বপ্নটা যে এঁকেছে, বেশ বোঝা যায়।

আর যে কিশোরী আবেগ নিয়ে অলিম্পিকে জায়গা করে নিতে পেরেই হু হু কেঁদেছিল, এবার সেখানেই যদি বড় কিছু একটা করে ফেলে ইকি? সুইমিং পুলের পানির পরিমাণ একটু বাড়বে বৈকি! সূত্র: এএফপি।