বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি নিরপেক্ষ, সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার অপরিহার্য। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ জারির মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১৯৯৩ সালের ৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সিকিউরিটিজ মার্কেটের উন্নয়ন এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়াবলি বা আনুষঙ্গিক বিধান প্রণয়ন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই) বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ। ২৮ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে ডিএসই প্রতিষ্ঠিত হলেও এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫৬ সালে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দ্বিতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ হিসবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (সিএসই) ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আমাদের পুঁজিবাজারের ইতিহাস স্বল্প না হলেও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ অভ্যাস এবং আর্থিক বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছু ব্যত্যয় রয়েছে। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী নিজের আর্থিক অবস্থা, সঞ্চয় ও বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্যাদি বিশ্লেষণ না করে অন্যদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে বা লোকমুখে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে থাকে। সচেতন বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য বিনিয়োগকারীকে আর্থিক শিক্ষা প্রদান অপরিহার্য।

যদিও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে প্রায় ৩০ লক্ষ বিনিয়োগকারী রয়েছে, তথাপি তাদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগকারী এবং তারা যথাযথ বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত নয়। যেহেতু তারা তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক বিবরণী এবং অন্যান্য প্রাপ্ত তথ্য সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে না; সেহেতু তারা গুজব, ধারণা ও আবেগের ভিত্তিতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে বাজারে তথ্যের অসামঞ্জস্যতা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা বৃহৎ বিনিয়োগকারীদের অনুসরণ করে থাকে। এতে বাজার কারসাজির সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে পুঁজিবাজারে ভুল বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘটনা ঘটে থাকে। সঠিক বিনিয়োগ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা গুজব, সংস্কার ও আবেগের ভিত্তিতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শুধু যে নিজেদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে তা নয়, তাদের কার্যক্রমে পুঁজিবাজার তথা দেশের অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

বিনিয়োগ শিক্ষা
বিনিয়োগ শিক্ষা আর্থিক শিক্ষণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সর্বপ্রথম বিনিয়োগ শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া সমীচীন। বিনিয়োগ শিক্ষা ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান। সঠিক বিনিয়োগ শিক্ষার ফলে আর্থিক জালিয়াতি থেকে রক্ষা পাওয়া এবং সুরক্ষিত আর্থিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দ্বৈত সুবিধা পাওয়া যায়। বিনিয়োগ শিক্ষা বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন পণ্যের উপযুক্ততা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান প্রদান করে তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আর্থিক বাজার ও বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যতার ফলে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক বাজারে ক্রমেই জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব ধরনের বিনিয়োগেই কিছু ঝুঁকি রয়েছে। বিনিয়োগকারী যদি ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে নিশ্চিত লাভের প্রত্যাশায় বিনিয়োগ করে, তবে স্বল্প লোকসানও তাকে হতাশ করতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখা এবং তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের অন্যতম উপায় হচ্ছে, যথাযথ বিনিয়োগ শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে তাদের নিজ আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করা। বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনিয়োগ শিক্ষা প্রসারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিনিয়োগ শিক্ষার ওপর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু করার ব্যাপারে কমিশনকে নিয়মিত উৎসাহ দিয়েছেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক গৃহীত ১০ বছরের Master Plan -এর অংশ হিসেবে কমিশন দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে। সবার সার্বিক সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল হবে মর্মে আমরা আশাবাদী।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে বিনিয়োগ শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। বিএসইসির উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা, তাদের জীবনে অর্থের ভূমিকা, সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবহার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সুবিধা, সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট ঝুঁকির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষার উপায় অবলম্বনের জ্ঞান প্রদানসহ এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

বিনিয়োগ শিক্ষার কৌশল
বিনিয়োগ শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি, পেশা বা বয়সের জন্য নয়; এই কার্যক্রম হবে সর্বব্যাপী, সব মানুষের জন্য ব্যাপক ও সুবিস্তৃত। সবার জন্য শিক্ষার মাধ্যম ও বিষয়বস্তু এক হবে না, ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যম ও বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষার বিষয়বস্তু সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সহজে বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করা হবে। বিদ্যমান ও সম্ভাব্য সব বিনিয়োগকারীর দোরগোড়ায় বিনিয়োগ শিক্ষা পৌঁছানো হবে। বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম স্বল্পমেয়াদি হবে না। একটি পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণের পরবর্তী পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের দ্বার উন্মুক্ত থাকবে, যা ক্রমান্বয়ে সব মানুষকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে।

উদ্যোগ
দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিবেচনাধীন টার্গেট গ্রুপসমূহকে তিনটি ধাপে বা মেয়াদে তথা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে নিম্নোক্ত উপায়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধাপ সময়সীমা টার্গেট গ্রুপ
স্বল্প মেয়াদি ২০১৬-২০১৭
  •  বিদ্যমান বিনিয়োগকারী;
  • পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ;
  • প্রশিক্ষক;
  • বিচারক, সেনাবাহিনির কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
মধ্য মেয়াদি ২০১৮-২০১৯
  • স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী
  • সরকারি/বেসরকারি চাকরিজীবী
  • এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য পেশাজীবী
  • মধ্যম আয়ের জনগণ
দীর্ঘ মেয়াদি ২০২০-২০২১
  • গৃহিণী
  • অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী
  • শ্রমিক, কৃষক
  • সাধারণ জনগণ

ভূমিকা ও দায়িত্ব
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তার জন্মলগ্ন, অর্থাৎ ১৯৯৩ সাল থেকেই বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। বর্তমানে বিএসইসি নিজস্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রতি মাসে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য দুবার এবং নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও একবার পৃথকভাবে বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, অন্যান্যের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও লাভ-ক্ষতির বিষয়ে ধারণা দেওয়া।

বিএসইসির প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ’। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের অন্যতম উপায় হচ্ছে তাদের যথাযথ বিনিয়োগ শিক্ষা প্রদান। বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত বিনিয়োগকারীরা নিজেদের অযৌক্তিক আচরণ থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি তাদের ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতার বাইরে বিনিয়োগ করে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা থেকেও দূরে থাকবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বর্তমানে একটি দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম প্রণয়ন করেছে। এতে মূল ভূমিকা পালন করবে বিএসইসি। ইতোমধ্যে বিএসইসি এ-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করেছে এবং পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং তাদের সাধ্যমত কার্যক্রমটি বিস্তারে সহায়তা প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে। বিধিমালার অধীনে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (বিএএসএম)’ এবং বিএসইসি এর ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বিভাগ সমন্বিতভাবে বিনিয়োগ শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এই বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এবং ‘জাতীয় আর্থিক শিক্ষানীতি’ চালুকরণের উদ্দেশ্যে সরকার, মন্ত্রণালয় ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম সফল করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহায়তা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপজিটরি, ক্লিয়ারিং কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচিটি সফল করার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ বিনিয়োগকারীদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ব্যবসার যথাযথ মূল্য প্রতিফলিত হবে। বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিনিয়োগ শিক্ষা-সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং আলাদা বিভাগ খুলতে হবে। আইসিএবি, আইসিএমএবি ও আইসিএসবির মতো পেশাজীবী সংগঠনসমূহ এবং বিআইসিএম, বিআইবিএমের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং অন্যান্য বিজনেস স্কুলের কোর্সের মাধ্যমে যথাযথ বিনিয়োগ শিক্ষা প্রদান করার বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।

উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা
এ ধরনের একটি বড় উদ্যোগের মূল বিষয় হলো কার্যক্রমটির ছক তৈরি করা। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার সম্ভাব্য সময়, টার্গেট গ্রুপ, সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ, কার্যক্রমের সমন্বয়, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, নীতি, কৌশল, পদ্ধতি, উপকরণ, বাজেট, তহবিল, পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ইত্যাদি। কমিশন ইতোমধ্যে কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন করাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করে এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে স্টিয়ারিং কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপরন্তু, টেকনিক্যাল কমিটির অধীনে আরও ১০টি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া এই কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে টেকনিক্যাল কমিটির তত্ত্বাবধানে বেশ কিছু ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।

দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য নিম্নোক্ত কার্যাদি সম্পন্ন করা প্রয়োজন:

  • কমিটি গঠন
  • রিসোর্স পারসন নির্বাচন
  • বিভাগ প্রতিষ্ঠা
  • সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করা
  • বিধি প্রণয়ন
  • কার্যক্রমের বিস্তারিত বিষয় নজরে আনা
  • উপকরণ প্রস্তুতকরণ
  • প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ
  • সরকারের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ
  • কার্যক্রম চালু করা
  • সেমিনার ও কর্মশালা
  • আঞ্চলিক সমন্বয়
  • প্রশিক্ষণ একাডেমি
  • পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান
  • বাজেট ও অর্থায়ন।

বিএসইসি ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে এবং বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও এ কাজে প্রচুর উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন, তথাপি বিএসইসি সফলভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে এবং লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
পরিচালনকাঠামো
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত পরিচালনকাঠামো নির্ধারণ করেছে:
১. স্টিয়ারিং কমিটি : বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক নীতিনির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি তত্ত্বাবধান এবং এই কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তারে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ের নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
২. ট্যাকনিক্যাল কমিটি : সারা দেশে বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি, প্রকল্প, কার্যপদ্ধতি, গবেষণা, মাধ্যম ইত্যাদি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এতদসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে জনবল নিয়োগসহ তাদের প্রশিক্ষিত করার জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৩. ওয়ার্কিং গ্রুপ : টেকনিক্যাল কমিটির তত্ত্বাবধানে সারা দেশে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম প্রদানের জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহে কর্মরত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে তাদের প্রশিক্ষিত করা হবে। ওয়ার্কিং গ্রুপ সারা দেশে বিনিয়োগ শিক্ষা প্রদান করবে।
একাডেমির কার্যক্রম
কমিশনের একাডেমি (বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট) প্রতিষ্ঠার পর বিনিয়োগ শিক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম একাডেমির অধীনে পরিচালিত হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সহায়তা বিএসইসির বিশেষভাবে প্রয়োজন। বিএসইসি তার জন্মলগ্ন থেকে সবার সহযোগিতা পেয়ে আসছে এবং বিএসইসি বিশ্বাস করে যে এ ক্ষেত্রেও তা অব্যাহত থাকবে। এ-সংক্রান্ত গঠিত সব কমিটি পূর্ণ উদ্যম নিয়ে দেশব্যপী এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সব বিনিয়োগকারীকে তাদের বিনিয়োগ সম্পর্কে অবগত ও শিক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য। যতক্ষণ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা আর্থিক বাজার এবং এর বিভিন্ন পণ্যের চরিত্র ও গতিবিধি সম্পর্কে অবগত না হচ্ছে এবং নিজেদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করার উপায় না বুঝতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সমাজের সার্বিক উন্নয়ন আশা করা যায় না। আমাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ও এর স্থিতিশীলতার জন্য এ দেশের মানুষকে বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ-সম্পর্কিত সম্যক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে যথাযথ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সিকিউরিটিজের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম বিনিয়োগকারী ছাড়া পুঁজিবাজার তথা অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়ন আশা করা যায় না। তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিনিয়োগ শিক্ষা অপরিহার্য।
মো. মাহবুবুল আলম
নির্বাহী পরিচালক
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন