বিনা কারণে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করলে ব্যবস্থা : দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, বিনা কারণে একজন ব্যবসায়ীকেও হয়রানি করলে দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কেউ ঘুষ চায় তাহলে আমাদের কাছে আসুন। কথা দিচ্ছি আপনাদের কাজের কোনো ক্ষতি হবে না। আপনাদের কাজ ওই দিনই করা হবে এবং ঘুষখোরকেও ধরা হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে ঘুষ দেন এমন বক্তব্যের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘টিআই গত বছরের প্রেজেন্টেশনে বলেছিল মানুষ বাধ্য হয়ে ঘুষ দেয়। আমি একটা কথা বলেছিলাম, ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কে ধরা হবে। তখন টিআই বলেছিল, মানুষ বাধ্য হয়ে ঘুষ দিলে তাকে ধরবেন কেন? হ্যাঁ, বাধ্য হয়ে ঘুষ দিলে ধরি না।

এ সভায় আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব ড. সামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম, এফবিসিসিআইর পরিচালক হাসিনা নেওয়াজ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) পরিচালক সেলিম আকতার খান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) মহাসচিব ফারুক আহমেদ।

২০১৭ সালে ঘুষসহ হাতেনাতে ২৫ জনকে ধরার তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা যদি ভয় পান যে, এভাবে যদি ঘুষখোরকে ধরিয়ে দিই তাহলে আমার কাজ চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে! কিন্তু আমি বলছি, আপনাদের কাজ চিরদিনের জন্য স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আপনাদের আরও নিশ্চয়তা দিতে চাই, আপনারা স্বচ্ছ মনে ব্যবসা করবেন।’

দুদকের মামলা মানুষকে শেষ করে ফেলে এমন মন্তব্য করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এ নিয়ে আমি নিজেও শঙ্কিত। দুদকের মামলা করলে মানুষের কী হয়? আমরা চেষ্টা করি যুক্তিযুক্ত ও আইনানুযায়ী যেন সবকিছু চলে। তিনি বলেন, ব্যাক টু ব্যাক এলসি, ওভার ইন ভয়েস ও আন্ডার ইন ফয়েসের মাধ্যমে যে দুর্নীতি হয় সে বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে। আমরা চাই আপনারা স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করুন। ঋণ নেবেন সেটা আমাদের বিষয় নয়। আমরাও চাই ব্যবসার প্রয়োজনে ঋণ নেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অনেক সময় ঋণ নেওয়ার সময় ভুয়া কাগজপত্র দেওয়া হয়। তাই আমরা বলতে চাই, যথাযথ কাগজপত্র দিয়ে ঋণ নেবেন। আপনারা যখন গ্যারান্টি দেবেন তা সত্যিকারের গ্যারান্টি যেন হয়।

সভায় বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগের জন্য দুর্নীতিকে মিনিমাইজ করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেক দূর যেতে হবে। কারণ প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।

তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত আশাবাদী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভীষ্ট লক্ষ্যে দ্রুত পৌঁছাতে পারব। দুর্নীতি সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে আমরা সবাই জানি। একটি গণতান্ত্রিক দেশে আমরা চাইব সবার জন্য সমান সুযোগ থাকাটা জরুরি। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার।

সভায় এফবিসিসিআইর পরিচালক হাসিনা নেওয়াজ বলেন, স্পিড মানি নিয়ে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে বাধ্য হন। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারা অনেক সময় এ ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। আমাদের দেশে এক ধরনের সংস্কৃতি রয়েছে। দুর্নীতিবাজ ধনী হলেও সমাজ ব্যবস্থায় প্রায় সবাই সখ্য গড়ে তুলতে চায়। এ সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার। সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) পরিচালক সেলিম আকতার খান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) মহাসচিব ফারুক আহমেদ।