ভারতের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মিতালি রাজ। দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট খেলছেন তিনি। ভারতে তিনি যখন প্রথম ক্রিকেট খেলেতে শুরু করেন তখন তাদের ছিল না কোনো স্পন্সরশীপ। ক্রিকেটের সরঞ্জাম কেনার জন্য মিতালি রাজের বাবা তার জন্য অনেক অর্থ খরচ করেছেন।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, একজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় যে ধরনের সরঞ্জাম ব্যাবহার করেন ঠিক সেগুলো কিনতে হয়েছিল মিতালির জন্য। সম্প্রতি সফররত ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের কিছু জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড মিতালি রাজের বেতন বাড়িয়েছে।
তার বেতন বাইশ হাজার পাঁচশ ডলার থেকে বেতন বাড়িয়ে করা হয়েছে সাতাত্তর হাজার ডলার। মিতালি রাজ এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামী নারী ক্রিকেটার।
তিনি বলেন, এ অবস্থানে আসতে আমাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমন সময় ছিল যখন আমি পুরো বছর একটি মাত্র ব্যাট দিয়ে খেলেছি। এখন আমি একটি সিরিজের জন্য যতগুলো ইচ্ছা ততগুলো ব্যাট রাখতে পারি।
কিন্তু তারপরেও ভারতের পুরুষ ক্রিকেটারদের তুলনায় নারী ক্রিকেটারদের বেতনে আকাশ-পাতাল তফাত। এ পার্থক্য কমে আসাটা একটি স্বপ্নের মতো ব্যাপার। ভারতের পুরুষ ক্রিকেট দলের 'সি গ্রেড' অর্থাৎ তৃতীয় গ্রেডের ক্রিকেটারদের তুলনায় মিতালি রাজ অর্ধেকেরও কম বেতন পান।
নারী ক্রিকেটারদের বেতন কম হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, নারীদের ম্যাচে দর্শক কম হয় এবং স্পন্সরশীপ বাবদ কম অর্থ পাওয়া যায়। ইংল্যান্ডের নারী ক্রিকেটারদের বেতন ভারতের নারী ক্রিকেটারদের চেয়ে কম।
দেশটির নারীর ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপও জিতেছে। কিন্তু তাতেও তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ইংল্যান্ডের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিদার নাইট মনে করেন এ অবস্থার পরিবর্তন হতে সময় লাগবে।
তিনি বলেন, পুরুষরা যখন প্রথম পেশাদারি ক্রিকেট শুরু করেছিল, সেখান থেকে আজকের অবস্থানে আসতে তাদের অনেক সময় লেগেছে। ইংল্যান্ডে একজন পুরুষ ক্রিকেটার যে আয় করেন, নারী ক্রিকেটারদের আয় তার চেয়ে ৩৮ শতাংশ কম।
দেশটির খেলার জগতে একমাত্র ক্রিকেটে খেলায় নারী এবং পুরুষের মাঝে বেতনের পার্থক্য অনেক বেশি। হিদার নাইট বলছেন, তিনি বেতন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে এখন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করছেন এবং আশা করা হচ্ছে বিষয়টি হয়তো তার পক্ষে আসবে।
পুরুষ এবং নারী ক্রিকেটারদের মাঝে আয়ের যে ব্যাপক পার্থক্য সেটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে ভারতের ক্রিকেট-প্রেমীদের কাছে।একজন নারী দর্শক বলছিলেন, আমি মনে করি নারী ক্রিকেটারদের আরো বেশি বেতন পাওয়া উচিত। তাহলে মা-বাবারা তাদের মেয়েদের ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করবে।
অন্যদিকে একজন পুরুষ দর্শক বলেন, কে কত টাকা উপার্জন করবে সেটি অর্থনীতি এবং বাণিজ্যের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়। পুরুষদের ক্রিকেট বেশি জনপ্রিয় এবং সেখানে বিজ্ঞাপন আসে বেশি। সেজন্যই পুরুষ ক্রিকেটাররা বেশি উপার্জন করে বলে সে দর্শক মনে করেন।
এস/