সাগর উত্তাল: সেন্টমার্টিনে আটকা শতাধিক পর্যটক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক। এ ছাড়া ভ্রমণে আসা কয়েকশ পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারেননি।
বৈরি আবহাওয়া কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় শনিবার সকালে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়নি। ফলে পর্যটকরা ফিরতে পারছেন না। তবে আটকাপড়া পর্যটকরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আটকাপড়া পর্যটকরা গত শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে গিয়েছিলেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৩নং সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগর ও নাফ নদীতে মাছ শিকার ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, ‘সাগর উত্তাল থাকায় ও বৈরি আবহাওয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে আসা প্রায় সাত শতাধিকের মতো পর্যটক দ্বীপে রয়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে।’ তাছাড়া শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি। ফলে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, সন্ধ্যায় আবহাওয়া খারাপ হওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেন্টমার্টিনের হাজার খানেক পর্যটক আটকা পড়েছিল। এর মধ্যে শনিবার সকালে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে প্রায় তিন শতাধিক পর্যটক টেকনাফ ফিরে গেছেন। এরপর দ্বীপে সাত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ে। তাদের যাতে খাদ্যসহ কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন সিদ্দিক বলেন, সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নিরাপদে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
আজকের বাজার: সালি / ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭